ভুতুড়ে, নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা সেবা হয়রানির শিকার সুবিধা ভোগিরা।।
লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামনাশীষ মজুমদারের বিরুদ্ধে।
লক্ষ্মীপুর রামগতি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরেও চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন অনেকে। আব্দুল করিম নামে একজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, সকাল থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে অপেক্ষা শেষে বিবির হাট বাজারের একজন পল্লী চিকিৎসকের নিকট থেকে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। পরের দিন অবস্থা গুরুতর দেখে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। অনুসন্ধান কালে হাসপাতালটি পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, বাহিরের দিকে চকচক্য করলেও ভিতরের অবস্থা সম্পূর্ণ ভুতুড়ে, নোংরা, অস্বাস্থ্যকর একটি পরিবেশ। হাসপাতালের ভিতরের রোগীর বেড,বারান্দ,বিভিন্ন রুমে বিভিন্ন জায়গায় ময়লার স্তুপ, অপরিষ্কার এবং নোংরা সাতসাঁতে পরিবেশ বিরাজমান। রোগীদের পয়:নিষ্কাশনের দিক থেকে বেরোচ্ছে বিরামহীন দুর্গন্ধ। রোগীরা নিজেদের প্রয়োজনেই পরিষ্কার করে নেন বলে জানিয়েছেন রোগীদের সাথে আগত লোকজন। ন্যূনতম স্বাস্থ্য সেবা, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধ পাওয়া এখানে খুব দুর্লভ। আর এ সমস্ত কারণে শিশু এবং গুরুতর রোগীদের অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করে। চিকিৎসকের উপস্থিতি না থাকায় রোগীদের জরুরী সেবার প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকের শরণাপন্ন হতে হয় নতুবা হাতুরে চিকিৎসকদের অপ চিকিৎসার কবলে পড়তে হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শীর্ষ কর্মকর্তা ডাক্তার কামনাশীষ মজুমদার একজন স্থানীয় দাপুটো ক্যাডার হিসেবে সর্বত্র পরিচিত। হাসপাতালের এসব অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি না পারলে আপনারা দায়িত্ব নেন। যেখানে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তার এরকম আচরণে সংবাদকর্মীরা বিব্রত সেখানে ভুক্তভোগী জনসাধারণ কি পরিমান সেবা পায় তার বলার অপেক্ষা রাখে না।
ডাক্তার কামনাশীষ মজুমদার
একই উপজেলার ৮ নং বড়খেরি ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা। সরকারি বিধি মোতাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জিও অনুসারে সরকারি কোন কর্মকর্তা তার নিজ এলাকায় পোস্টিং সম্পূর্ণরূপে বেআইনি ও চাকরি বিধি পরিপন্থী। এর আগেও তিনি এ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব আব্দুল মন্নান কে প্রভাবিত করে তার এলাকায় অবৈধভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে পুস্টিং নেন। মেডিকেল অফিসার থাকাকালীন সময়ে হাসপাতালের পুরাতন আসবাবপত্র ভংগারী লৌহালংগর পুরাতন জং ধরা টিন বিক্রির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিস্তারিত নিয়ে আসছি আগামী পর্বে সাথে থাকুন চোখ রাখুন।
মন্তব্য করুন