লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদের বিরুদ্ধে ৩৩ লাখ টাকার একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় দৈনিকে অনিয়মের খবর প্রকাশিত হওয়ায় এ উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) এলজিইডি নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. ইকরামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরীকে। সদস্য সচিব করা হয়েছে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফা মিনহাজকে এবং সদস্য করা হয়েছে এলজিইডি নোয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস আলমকে। কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ১৩ নভেম্বর দৈনিক মানবজমিন এবং ১৪ নভেম্বর দৈনিক জনকণ্ঠ, আজকের পত্রিকা ও খোলাকাগজে উপজেলা প্রকৌশলীর অনিয়ম, নিজেই ঠিকাদারি করা এবং প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপরই লক্ষ্মীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী একরামুল হক তাঁকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন।
২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমলনগর উপজেলায় আরএফকিউ ও পিআইসির মাধ্যমে ছয়টি প্রকল্পে মোট ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এগুলো হলো—
চরমাটিন ইউনিয়নের বলিরপুল সড়কে দুইটি কালভার্ট নির্মাণ ও সড়ক সংস্কার — ১৩ লাখ টাকা, তোরাবগঞ্জ সড়ক ও ড্রেন সংস্কার — ৬ লাখ টাকা, উপজেলা পরিষদের গ্রেডেট-নন গ্রেডেট কোয়ার্টার সংস্কার — ৫ লাখ টাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেট সংস্কার — ৪ লাখ টাকা, হাজিরহাট দক্ষিণ বাজারের ড্রেন সংস্কার — ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
অভিযোগ রয়েছে—উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মুজাহিদ এসব প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, মানহীন কাজ, নিজেই ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ ও বরাদ্দের বড় অংশ আত্মসাৎ করেছেন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও এলজিইডি লক্ষ্মীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, “উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে একটি চিঠি পেয়েছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।”
মন্তব্য করুন