বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

নবেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু হবে ই-কমার্স খাতে

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৭৬ Time View

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেল’ আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই সেল থেকে নিবন্ধনের বাইরে দেশে আর কোন প্রতিষ্ঠানের অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্স ব্যবসা করার সুযোগ থাকছে না। আগামী নবেম্বর মাস থেকে নিবন্ধনের ফরম ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে ডিজিটাল কমার্স সেল। অর্থাৎ আগামী মাস থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফরমের খসড়া হয়ে গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), টিআইএন, ট্রেড লাইসেন্স ও ভ্যাট নিবন্ধনের মতো বিষয় থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। এছাড়া বিদ্যমান কোম্পানি আইনের মাধ্যমে ই-কমার্স ব্যবসাকে নিয়ে আসা যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে এ খাতের উদ্যোক্তারা আপত্তি জানিয়েছেন। ই-কমার্স কেনাকাটায় অগ্রিম টাকা নেয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে না। পেমেন্ট সিস্টেমের পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া লোভনীয় অফার কিংবা বাজার মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত কম মূল্যে পণ্য বিক্রির কথা বলে ক্রেতা আকর্ষণের সুযোগ থাকছে না।

জানা গেছে, ই-কমার্স ব্যবসার আড়ালে এমএলএম (মাল্টি লেভেল মার্কেটিং) বা নেটওয়াকির্ং ব্যবসা করলে শাস্তির বিধান রাখা হবে। এজন্য বিদ্যমান আইন ব্যাপক সংস্কার ও সংশোধন করার সুপারিশ করেছে এ সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি। প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহক ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, এমডি এবং অন্যান্য নির্বাহীর আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান করা হতে পারে। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ জনকণ্ঠকে বলেন, নতুন আইন প্রণয়ন এবং আলাদা কর্তৃপক্ষ গঠন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এ কারণে ত্বরিত কিছু কাজ করার জন্য কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এই সেল থেকে নিবন্ধন না হলে আর কোন প্রতিষ্ঠানের ই-কমার্স ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, ই-কমার্সের আর্থিক বিষয়গুলো দেখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পেমেন্ট সিস্টেমসহ আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে বেশ অগ্রগতি আছে। তিনি বলেন, শীঘ্রই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ই-কমার্স ব্যবসার আবেদন ফরম ছাড়া হবে। উন্নত বিশ্বে কিভাবে ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে কি ধরনের আইন রয়েছে তা অনুসরণ করা হবে। বিশেষ করে ব্রিটিশ আইনটি পুরোপুরি অনুসরণ করে বিদ্যমান আইন সংস্কার করা হবে।

উল্লেখ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান হিসেবে বর্তমান একজন অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ডবিøউটিও বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেলের প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বড় দুটি সেল পরিচালনার জন্য এখানে আরও দক্ষ জনবল বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া মন্ত্রণালয়ে পৃথক অফিসকক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগসুবিধা বাড়ানো অপরিহার্য হয়ে পড়ছে। দেশে বর্তমান কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে ফেসবুকভিত্তিক কয়েক লাখ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ডিজিটাল সেলের বাইরে দেশের অন্যতম এই খাত দেখভাল ও নিয়ন্ত্রণে কোন কর্তৃপক্ষ বা সরকারী প্রতিষ্ঠান নেই। ফলে ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, রিং-আইডিসহ বহু ফটকা প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এতে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এমনকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইমেজ সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2015 teamreportbd
কারিগরি সহযোগিতায়: Freelancer Zone
freelancerzone