দলিল রেজিস্ট্রি করতে সরাসরি ঘুষ দিতে হয় ঝাড়ুদার সোহেলকে এর বিরুদ্ধে ৯ টি দপ্তরে অভিয
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: রায়পুর সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের নাইট গার্ড ও ঝাড়ুদার সোহেল বেপরোয়া ঘুস বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন। জমির ক্রেতা-বিক্রেতা ও দলিল লেখকদের অভিযোগ-ঘুষ ছাড়া এ অফিসে দলিল নড়ে না।জমি রেজিস্ট্রেশন করতে দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা।এ টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যায়। টাকা না দিলে দলিলে ইচ্ছে করে ভুল করা কিংবা দলিল আটকে রেখে হয়রানির ঘটনাও ঘটে
দলিল লেখক ও ভুক্তভোগীদের পক্ষে এড: সালাহ উদ্দিন রিগান সচিব ,আইন বিভাগ, গণমাধ্যম সহ ৯ টি দপ্তরে লিখিত একটি অভিযোগ দিয়েছেন ঘুষ গ্রহণ ও দুনীতিবাজ সোহেলের বিরুদ্ধে।
রায়পুর সাব- রেজিস্ট্রারের অফিসে যখনে নতুন কোন সাব -রেজিস্ট্রার যোগদান করেন এর পর তাকে সু-কৌশলে ম্যানেজ করে তার অধীনে নিয়ে আসেন ঝাড়ুদার সোহেল। কে এ সোহেল? তার খুঁটির জোর কোথায়? তার অধীনে চলে রায়পুর সাব- রেজিস্ট্রি অফিস। তার ভয়ে কোন দলিল লেখক মুখ খুলে কোন প্রতিবাদ করতে পারে না। কি তার পরিচয়। ঘুষখোর দূর্নীতিবাজ সোহেল লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ কেরোয়া গ্রামের মাজের মসজিদ মাঝি বাড়ির মৃত আবদুল হালিমের ছেলে।
নাম প্রকাশ্যেই এক দলিল লেখক জানিয়েছেন, ৫ম শ্রেণী পযর্ন্ত লেখা পড়া করেছে কিনা জানা নেই। তবে সেই যোগদান করার আগে তরকারি ব্যবসা করতেন।নাইট গার্ড কাম ঝাড়ুদার থেকে সহকারী সাব রেজিস্ট্রারের পরিচয় দিয়ে ও কমিশন দলিলের দায়িত্বে পালন করার অভিযোগ উঠেছে সোহেলের বিরুদ্ধে।
নিবন্ধন করতে আসা জমির ক্রেতা- বিক্রয়তার ও দলিল যাচাই-বাছাই করার পর ঘুষ গ্রহন করে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন ঝাড়ুদার সোহেল। এর পিচনে কলের কবজা নাড়ছে আন্ডারগ্রাউন্ড থাকা দলিল লেখক গুলজার এবং রায়পুর পৌর আ:লীগের সভাপতি জাকের পাটির নেতা কাজী জামসেদ কবির বাক্কী বিল্লাহ।
অপর দিকে রায়পুর উপজেলা চর লক্ষ্মী ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ডের মিঝি বাড়ির মো: আলী বলেন, একটি কমিশন দলিল করতে সোহেলকে ৩৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
দলিল লেখক তুহিন জানিয়েছেন, ঢাকার নিবন্ধন অধিদপ্তরের কোন নিয়োগ অথবা আদেশ না থাকায় সত্ত্বেও লক্ষ্মীপুর জেলার রেজিস্ট্রারের লিখিত একটি চিটির মাধ্যমে ২০০৯ সালে রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দৈনিক ৬০ টাকা মজুরী হিসেবে নাইট গার্ড কাম ঝাড়ুদার হিসেবে যোগদান করেন সোহেল এর পর থেকে আলা উদ্দিনের চেরাগের মতো সাব- রেজিস্ট্রারে সহকারী হিসেবে দাবড়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা লোকজন নাইট গার্ড সোহেলকে সাব- রেজিস্ট্রার মনে করে স্যার হিসেবে সম্বোধন করেন এবং সাব- রেজিস্ট্রারের অফিসের সকল নথিপত্র দলিল রেজিস্ট্রি, কমিশন দলিল করতে সরকারি রেটের বাহিরে অতিরিক্ত টাকা আদায়, পাওয়ার আমমোক্তারনামা দলিল,ডিড অব মর্গেজ দলিল,হেবাপত্র,দানপত্র,বন্টনপত্র,ঘোষণাপত্র,অংশনামা,ও চুক্তিপত্রে মতো দলিল সম্পাদনেরও সেবাগ্রহীতাদের দিতে হচ্ছে মোটা অংকের ঘুষ এক কথা ঘুষ ছাড়া কোন কাজে হয় না, ক্রেতা- বিক্রয়তা থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সরকারি আয় কর ফাঁকি দিয়ে করা হচ্ছে হেবা, দান পত্র দলিল, শুধু এখানেও শেষ নয় খাজনা দাখিলা ছাড়া টাকা বিনিময়ে করা হচ্ছে দলিল রেজিস্ট্রি।
দলিল লেখকদের থেকে অতিরিক্ত ঘুষ বাণিজ্য,অফিসের সকল কার্যক্রম করে আসছে দুর্নীতিবাজ সোহেল নামপ্রকাশ্যেই একাধিক দলিল লেখক অভিযোগ করে বলেন, ঝাড়ুদার সোহেলের অনুমতি ছাড়া কোন জমিজমা রেজিস্ট্রি হয় না বলে চলে। ঝাড়ুদার সোহেল দলিল-যাচাই-বাছাই করার পর সাব -রেজিস্ট্রার দলিল রেজিস্ট্রি করেন। সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের মৌখিক চুক্তিতে দৈনিক ৬০ টাকা মজুরি হারে নাইট গার্ড কাম ঝাড়ুদার থেকে রাতা রাতি হয়ে যান রায়পুর সাব- রেজিস্ট্রার সহকারী হিসেবে দাপটের সাথে দলিল যাচাই-বাছাই, ও ঘুষ গ্রহন করার গত কয়েক মাস ধরে রায়পুর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ঘুরে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের সত্যতারও পেয়েছেন এ প্রতিবেদক একাধিক ভিডিও ক্লিপ স্থিরচিত্র সকালের সময় হাতে রয়েছে। সোহেলকে ঘুষ না দিলে অযৌক্তিকভাবে নানা ভুল দেখিয়ে দলিল লেখকদের কাছ থেকে ১০- ১৫ হাজার টাকা আদায় করেন। কোনো পদ কিংবা নিয়োগ না থাকা সোহেল অফিসের হর্তাকর্তা।
উল্লেখকৃত বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত সোহেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, দিনের বেলা অফিস করেন না রাতের বেলা আসবেন।
ঝাড়ুদার মো: সোহেল রায়পুর সাব-রেজিস্টি অফিসে দলিল যাচাই-বাছাই, কমিশন দলিল করা,সরাসরি ঘুষ গ্রহন করার বিষয়ে জানতে লক্ষ্মীপুর জেলার রেজিস্টার লোকমান হোসেন বলেন, ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করে বিধিমালা অনুযায়ী সোহেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলিল যাচাই বাছাই, কমিশন দলিল করা তাকে কোন কাজ দেয়া হয় নাই। তাকে নাইড-গার্ড কাম ঝাড়ুদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় সোহেলের বোন জামায় আবদুল লতিফ মন্নান কিভাবে রাতে বেলা নাইট গার্ড হিসেবে কাজ করেন।