খালের অব্যাহত ভাঙনে বিস্তীর্ণ জনপদ বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লক্ষ্মীপুর-রামগতি সড়কের সংযোগ পিয়ারাপুর ব্রিজটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।লক্ষ্মীপুরে রহমতখালী খালে পানির তীব্র স্রোতে তীর ভেঙে ভিটেমাটিসহ প্রায় ৩০টি ঘর ভেঙে তলিয়ে গেছে।
এ অবস্থায় রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে খাল ভাঙন রোধে জরুরিভাবে বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পিয়ারাপুর গ্রামবাসী। পরে জেলা প্রশাসক সুরাইয়া জাহানের কাছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে ভুক্তভোগীরা।
এসময় বক্তব্য রাখেন ভূঁইয়া মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মহিন উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম, হেলাল উদ্দিন পাটওয়ারী ও মো. সুমন। এছাড়া পিয়ারাপুরসহ আশপাশের গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, গত ৪০ বছরে রহমখালী খালের কারণে এমন ভাঙন দেখা যায়নি। শুনে আসছি এক পাড় ভাঙলে অন্যভাবে চর জাগে। কিন্তু খালের এখন দুই পাশেই ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পিয়ারাপুর ব্রিজের অদূরে খাল থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এখন ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বিস্তীর্ণ জনপদ বিলীন হয়ে যাবে। এমন অবস্থায় দ্রুত ব্লক স্থাপন করে বাঁধ নির্মাণ করা না হলে খাল আশপাশের বাড়িঘরগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট থেকে লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার চরশাহী, চন্দ্রগঞ্জ, দিঘলী, উত্তর জয়পুর, দত্তপাড়া, মান্দারী, ভবানীগঞ্জ ও বাঙ্গাখাঁসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা শুরু হয়। বিভিন্ন রাস্তাঘাট থেকে পানি নামলেও বাড়িঘর থেকে এখনো নামেনি। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাও বুকপানি, কোথাও কোমর পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এছাড়া কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ভুলুয়া নদী সংশ্লিষ্ট বিস্তীর্ণ জনপদ প্রায় দেড় মাস ধরে পানিবন্দি। বাড়ির উঠানসহ মাঠ-ঘাট, ফসলি ক্ষেত এখনো পানিতে থৈ থৈ করছে।